বাংলা

শি রু ফেই: হৃদয় ও আবেগ দিয়ে চা তৈরি করা

CMGPublished: 2023-01-21 12:26:55
Share
Share this with Close
Messenger Pinterest LinkedIn

চীনের কুয়াংসি জুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উচৌ শহরের ছাংউ জেলার লিউবাও উপজেলায় স্থানীয় জনগণের আয়ের একটি প্রধান উৎস হল চা চাষ করা। প্রায় প্রতিটি পরিবারই চা চাষ করে এবং চা তৈরি করে। অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান অনুসারে, ছাংউ জেলার ২০ হাজারেরও বেশি লিউবাও চা-কর্মীর মধ্যে ৭০% এরও বেশি নারী, এবং তাঁরা লিউবাও চা উত্পাদন ও প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩৫ বছর বয়সী শি রু ফেই, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পর্যায়ে লিউবাও চা তৈরিতে দক্ষএকজন ব্যক্তি। লিউবাও অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী হিসাবে, তার জন্মের দিন থেকেই লিউবাও চায়ের সাথে তার একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন রয়েছে। শি রু ফেই হাসিমুখে বলেন,তার পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে চায়ের সাথে জড়িত। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা, দাদা এবং ঠাকুরমা সবাই চা তৈরী করতেন। বাবা-মা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন চায়েরমাধ্যমে। আমার মা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিউবাও চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।"

শি রু ফেইয়ের মা, ওয়েই চিয়ে ছুন, জাতীয় পর্যায়ের কালো চা তৈরির দক্ষতার (লিউবাও চা তৈরির দক্ষতা) অধিকারী। এই কৌশল জাতীয় অবস্তুগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তিনি চা চাষ ও তৈরীর বৈশিষ্ট্যময় দক্ষতা সম্পর্কে জানতে লিউবাও শহরের প্রতিটি চা পাহাড় এবং প্রতিটি গ্রামে গিয়েছিলেন।

"তার পাশে বসে চা বানানো শিখতে পেরে আমি খুব গর্বিত বোধ করি" শি রু ফেই বলেন, "যদিও তিনি আমার মা, তবে তৈরির দক্ষতা শেখানোর সময় তিনি অবশ্যই একজন কঠোর শিক্ষক। তিনি প্রায়ই আমাকে বলেন, আন্তরিকতার সাথে চা বানানো উচিত। লিউবাও চায়ের আসল আকৃতি এবং স্বাদ নিশ্চিত করতে হবে। আমার মা আমাকে প্রায়ই মনে করিয়ে দেন যে, চা বানাতে শিখতে চাইলে প্রথমে ভালো মনের মানুষ হতে হবে। শুধুমাত্র একজন ভালো মানুষ হয়ে আপনি উচ্চমানের চা তৈরি করতে পারবেন।"

লিউবাও চা উত্পাদনের ইতিহাস ১৫০০ বছরের। লিউবাও অঞ্চলের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে, কারণ এ চায়ের উত্পত্তি এ অঞ্চলে। অনেক প্রক্রিয়ার পরে, লিউবাও চায়ের চেহারা ফিশহুকের আকারের মত বাঁকা হয়, রঙ গাঢ় বাদামী এবং মসৃণহয়, চায়ের স্যুপটি অ্যাম্বার রঙের হয় এবং পান করার সময় স্বাদ মৃদু ও মিষ্টি হয়। এটি "পানযোগ্য প্রাচীন উত্তরাধিকার" নামে পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে, লিউবাও চা মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং চীনা চায়ের মধ্যে "বিদেশী চীনাদের মধ‍্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত চা" হয়ে উঠেছে।

লিউবাও চায়ের উত্পাদন, স্বাদগ্রহণ এবং উত্তরাধিকারে নারীরা বিশাল ভূমিকা পালন করেন। শি রু ফেই-এর দৃষ্টিতে, লিউবাও চা-কর্মীদের বেশিরভাগ নারী হওয়ার কারণ হল, ভাল চা তৈরির জন্য যথেষ্ট ধৈর্য এবং যত্নের প্রয়োজন হয়। লিউবাও চা উত্পাদন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নারীদের কোমলতা ও দৃঢ়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শি রু ফেই উল্লেখ করেন: “শ্রমের সামাজিক বিভাজনের কারণে, বেশিরভাগ পুরুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেছে; বেশিরভাগ নারী, বৃদ্ধ ও শিশু গ্রামে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, লিউবাও চা তৈরির দক্ষতাও তাদের অধ্যবসায়ের কারণে হারিয়ে যায়নি। অতীতে পরিবারে হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে হোক বা এখনকার লাইভ-সম্প্রচারের মাধ্যমে শিখে হোক, নারীরা অন‍ন‍্য ভূমিকা পালন করছে।"

লিউবাও চা তৈরির দক্ষতা আরও ভালভাবে প্রচার করার জন্য, শি রু ফেই, একজন জাতীয় মডেল কর্মী হিসাবে, "বেস + উত্তরাধিকারী + স্টুডিও + প্রশিক্ষণ ক্লাস + সমবায় + দরিদ্র পরিবার" শীর্ষক উদ্ভাবনী শিল্প বিকাশের মডেল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার মাধ‍্যমে শি রু ফেই গ্রামের ১৮০টিরও বেশি পরিত্যক্ত চা বাগানে আবারো চা চাষ করতে গ্রামবাসীকেউৎসাহিত করেছেন। এখন লিউবাও উপজেলার থাংফিং গ্রামে ৪ হাজার মু-এর বেশি লিউবাও চা বাগান রয়েছে, দুইটি গ্রাম-ভিত্তিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, ৯টি পেশাদার সমবায় ও ১৭টি চায়ের ক্ষুদ্র কম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নারীরা চা-শিল্পে কাজ করার জন‍্য পরিবারের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ইউয়ান বৃদ্ধি পেয়েছে। লিউবাও চা স্থানীয় নারীদের একটি টেকসই জীবিকা হয়ে উঠেছে এবং তা লিঙ্গ সমতা, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন এবং টেকসই সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ভবিষ্যতে শি রু ফেই ঐতিহ্যবাহী লিউবাও চায়ের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক মানদণ্ড স্থাপন করবেন। চায়ের গুণগত মান উন্নত করতে লিউবাও চায়ের উৎপাদন প্রযুক্তি এবং প্রক্রিয়াকরণের লাইন উন্নত করবেন। চায়ের উত্তরাধিকারীদের লালন করার জন‍্য জোরালোভাবে প্রচেষ্টা চালাবেন। শি রু ফেই দৃঢ়ভাবে বলেন: "'নতুন যুগেও চা-কর্মীদের জীবনভর চা-শিল্পের চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐতিহ্যগত দক্ষতা এবং চীনা বৈশিষ্ট্য বিশ্বের কাছে চমক হয়ে উঠবে! "

Share this story on

Messenger Pinterest LinkedIn