সহজ চীনা ভাষা: আত্মবিরোধিতা
বন্ধুরা, আজকে যে ছেং ইয়ু আমরা শিখাবো তা হল ‘自相矛盾’, এর অর্থ ‘আত্মবিরোধিতা’। শব্দটি চীনের বিখ্যাত একজন চিন্তাবিদ, দার্শনিক ও সাহিত্যিকের সঙ্গে জড়িত। তিনি হলেন হান ফেই। তিনি প্রায় ২২০০ বছর আগের মানুষ। হান ফেই কনফুসিয়ানিজমের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি সিয়ুন য্যি’র কাছে অধ্যয়ন করেন। কনফুসিয়ানিজমের ভিত্তিতে তিনি আইনী বিষয়গুলো (legalism) উন্নত করেছেন। হান ফেই মনে করেন, একটি দেশ শাসনের জন্য সম্রাটের উচিত সুসম্পন্ন আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করা। তিনি প্রথমবারের মত ‘আইনের সামনে অভিজাত ও সাধারণ মানুষ সমানের’ ধারণা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, আর তার এই ধারণা চীনের প্রথম একীভূত ও কর্তৃত্ববাদী কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করে। হান ফেই তার ধারণা ব্যাখ্যা ও প্রচার করার জন্য অনেক বই লিখেছেন। আজকের ছেংইয়ু তার বই ‘হান ফেই য্যির’ একটি মজার উপকথা থেকে এসেছে।
এই উপকথায় বলা হয়, ছু রাজে একজন মানুষ অস্ত্র বিক্রি করে। একদিন সে বাজারে বর্শা ও ঢাল বিক্রি করছিল। সে সবাইকে বলে: ‘আমার ঢাল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল। যতই ধারালো জিনিস হোক না কেন, তা ভেদ করা যায় না!’ তারপর সে বর্শা নিয়ে বলে: ‘আমার বর্শা বিশ্বের সবচেয়ে ধারালো বর্শা, যতই শক্ত হোক না কেন, এটি স্পর্শ করতেই যা বিদ্ধ হবে যাবে!’ তার কথা অনেক মানুষকে আকর্ষণ করে। সে এত বেশি মানুষ দেখে খুব খুশি হয় এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে: দেখুন দেখুন, এখানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্ত ঢাল ও সবচেয়ে ধারালো বর্শা আছে!’ এ কথা শুনে একজন মানুষ তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে: ‘তোমার বর্শা দিয়ে তোমার ঢাল খোঁচা দিলে কি হবে?’ দর্শকরা প্রথমে হতবাক হয়ে যায় তারপর সবাই হেসে ওঠে। অবশেষে সেই মানুষ বর্শা ও ঢাল- কিছুই বিক্রি করতে পারে না।