সহজ চীনা ভাষা: টেকসই উন্নয়ন-China Radio International
উন্নয়ন হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের প্রধান বিষয় এবং মানবজাতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। গত কয়েক শতাধিক বছরে মানবসমাজ দ্রুত উন্নত হয়েছে। তবে এর পেছনে রয়েছে অনেক প্রাকৃতিক ও সামাজিক সমস্যা, পৃথিবীর মানুষও এজন্য কঠিন মূল্য দিয়েছে। বর্তমানে উন্নয়নের চাহিদা পূরণ করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের উন্নয়নের অধিকার নষ্ট না-করার জন্য ১৯৮৭ সালে বিশ্ব পরিবেশ ও উন্নয়ন কমিটি আনুষ্ঠানিকেভাবে ‘টেকসই উন্নয়নের’ ধারণা উত্থাপন করেছে। পরবর্তীতে টেকসই উন্নয়নের ধারণা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের উন্নয়ন ঘোষণা ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চীনও ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মত টেকসই উন্নয়নের কৌশল দেশের আর্থ-সামাজিক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় উল্লেখ করেছে।
‘টেকসইউন্নয়নের’ধারণাচীনাদেরকাছেনতুননয়।প্রাচীনচীনাদর্শনেরএকটিধারণাহল‘天人合一’,অর্থাতমানুষওপ্রকৃতিপরস্পরঘনিষ্ঠভাবেজড়িতএবংএকসঙ্গেপুরোপৃথিবীগড়েউঠেছে।প্রাচীনচীনারামনেকরত,মানুষেরউচিতপ্রকৃতিওপৃথিবীরসঙ্গেসুষমসম্পর্কবজায়রাখা।একদিকে,মানুষনিজেরচাহিদাপূরণকরারজন্যপ্রাকৃতিকসম্পদব্যবহারকরে,অন্যদিকেপ্রকৃতিকেসম্মানকরাওপ্রকৃতিরনিয়মথেকেশেখাউচিত;যাতেপ্রকৃতিরক্ষাকরাযায়এবংপ্রাকৃতিকদুর্ঘটনাএড়ানোযায়।প্রাচীনকালেরঅনেকসম্রাট‘天人合一’রধারণাব্যবহারকরেদেশপ্রশাসনকরত,পরিবেশগতপ্রশাসনমূল্যায়নকরাহতো।প্রকৃতিকেসম্মানকরাথেকেচীনেরবিভিন্নঅঞ্চলওজাতিরনিজেরপরিবেশসংরক্ষণসংক্রান্তব্যবস্থাগড়েউঠেছে।
প্রাচীনকাল থেকে মানুষ ও প্রকৃতির সুষম থাকার ধারণা চীনাদের মনে রয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ সরক্ষণ চীনের মৌলিক নীতি এবং টেকসই উন্নয়ন মৌলিক কৌশল হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। ২০১২ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অষ্টাদশ সম্মেলনে চীন প্রথমবারের মত ‘সুন্দর চীন’ ধারণাটি উত্থাপন করে এবং ‘পরিবেশবান্ধব সভ্যতা’ বা ‘Ecocivilization প্রতিষ্ঠা’ দেশের সামষ্টিক উন্নয়নের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একটি কথা ব্যাপক প্রচলিত; তা হল- ‘সবুজ পাহার ও পরিষ্কার নদী হল অমূল্য সম্পদ’। তিনি বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ হল- উত্পাদন দক্ষতা সংরক্ষণ, পরিবেশ উন্নত করা হল উত্পাদন দক্ষতা উন্নত করা। পরিবেশ ভালো হলে সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হবে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। যেমন- বনায়ন করা, আবাদি জমির পরিবর্তে পুকুর বা হ্রদ গড়ে তোলা, মরুকরণ মোকাবিলা করা ইত্যাদি। এসব হচ্ছে চীনের টেকসই উন্নয়নের একটি প্রকৃত প্রমাণ।