আফ্রিকায় ডিজিটালাইজেশনের ভবিষ্যত অনেক বিস্তৃত
উন্নয়নের একটি নতুন ইঞ্জিন হিসেবে আফ্রিকায় ডিজিটালাইজেশনের উন্নয়নের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। চায়না ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সের ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের ফ্রেঞ্চ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং আফ্রিকান স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা লিউ থিয়েননান বিশ্বাস করেন যে, এটি মূলত নীতি নির্দেশিকা, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, জনসংখ্যার পরিমাণ ও গুণমানের উন্নতিতে এবং মোবাইল পেমেন্টের দ্রুত বিকাশসহ নানা ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়।
আঞ্চলিক বা জাতীয় পর্যায়ে, আফ্রিকা ডিজিটালাইজেশনের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন কৌশল তৈরি করে। একদিকে, আফ্রিকান ইউনিয়নের নীতি-নথিতে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং প্যান-আফ্রিকান নেটওয়ার্ক সিস্টেম ও আফ্রিকান অনলাইন ইউনিভার্সিটির মতো ডিজিটাল ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, অন্যদিকে অনেক আফ্রিকান দেশ প্রাসঙ্গিক নীতিগুলোকে উন্নীত করার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন মিশরের ‘২০৩০ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কৌশল’ এবং কেনিয়ার ‘ডিজিটাল ইকোনমিক ব্লুপ্রিন্ট’ প্রভৃতি।
আফ্রিকার তথ্য ও যোগাযোগের প্রযুক্তির অবকাঠামো অব্যাহতভাবে অগ্রগতি হচ্ছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের ‘এজেন্ডা ২০৬৩’র দ্বিতীয় কার্যকরি প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইন্টারনেট অ্যাক্সেসসহ আফ্রিকার জনসংখ্যা ৪৫ শতাংশ থেকে ৭২ শতাংশে বেড়েছে। গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত ‘২০২৩ সাব-সাহারান আফ্রিকা মোবাইল ইকোনমি’ রিপোর্ট অনুসারে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আফ্রিকায় স্মার্টফোন ব্যবহারের হার ৮৮ শতাংশে পৌঁছাবে, ফোর-জি ব্যবহারের হার প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছে যাবে এবং ফাইভ-জি’র ব্যবহারের হার প্রায় ১৭ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, আফ্রিকা মহাদেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনসংখ্যার মানও ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে, যা আফ্রিকায় ডিজিটালাইজেশনের প্রচার ও উন্নয়নের জন্য সহায়ক। পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী আফ্রিকান যুবকদের সংখ্যা, যারা মাধ্যমিক বা উচ্চ শিক্ষার স্তরে পৌঁছেছে ২০১০ সালে ৪৭ মিলিয়ন থেকে ২০২০ সালে ৭৭ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ১৬৫ মিলিয়নে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।