নতুন যুগে চীনের সংস্কার-পরিকল্পনা: সর্বোত্তম লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবচেয়ে কঠিন সমস্যা সমাধান করতে হবে
মুক্তা: বন্ধুরা, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ হলো চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র দেশ-প্রশাসনের একটি মৌলিক নীতি। ১৯৭৮ সালে আয়োজিত সিপিসি’র একাদশ কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে, চীনের তত্কালীন শীর্ষনেতা তেং সিয়াও পিং, এ নীতি উত্থাপন করেন। আর, ২০১৩ সালে সিপিসি’র অষ্টাদশ কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এ নীতির সম্প্রসারণ ঘটান। চলতি বছর, সিপিসি’র কুড়িতম কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের প্রাক্কালে, আমরা আপনাদেরকে নতুন যুগে চীনের সংস্কারনীতি ও এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে অবহিত করবো।
মুক্তা: আজকের আলোচনা শুরু করছি দুটি আলপাইন গাছের গল্প দিয়ে।
আলিম: হ্যাঁ, আলপাইন ডুমুর দক্ষিণ চীনের একটি সাধারণ গাছের প্রজাতি। তবে, গাছটির শক্তিশালী জীবনীশক্তি আছে। এটি খরা ও বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধী। এর চারা রোপণ করা ও এর যত্ন নেওয়া সহজ। তাই, এ গাছ সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রতীক। পূর্ব চীনের একটি উপকূলীয় শহর শেনচেনে দুটি আলপাইন ডুমুর গাছ নিয়ে আছে চমত্কার গল্প।
মুক্তা: ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে তেং সিয়াও পিং শেনচেন পরিদর্শনের সময় সেই দুটি গাছের একটি রোপণ করেছিলেন। তেং সিয়াও পিংকে ‘চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের প্রবক্তা’ বলা হয়। তিনি চীনে প্রথম যুগসৃষ্টিকারী সংস্কারের সূচনা করেন। ১৯৭৯ সালে তেং সিয়াও পিং শেনচেন শহরকে চীনের ‘প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হিসেবেও ঘোষণা করেন। এর পর, মাত্র ৩০ বছরে, এই শহরটি ৩ হাজারেরও কম বাসিন্দার একটি ছোট নানহাই নগর থেকে, প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার একটি বিশ্বমানের আধুনিক মহানগরে পরিণত হয়। ২৪.৮ শতাংশ গড় বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে, এ শহর ‘শেনচেন মিরাকল’ সৃষ্টি করেছে; বিশ্বকে করে অবাক।