‘বৃহত্তর ব্রিকস সহযোগিতা’ কীভাবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে? চীনের পরিকল্পনা পথ নির্দেশ করে
চীনের উত্থাপিত ‘শান্তিপূর্ণ ব্রিকসে’র অর্থ হল ব্রিকস দেশগুলোকে নতুন নিরাপত্তা ধারণা অনুশীলনের উদাহরণ হয়ে উঠতে হবে এবং বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বজায রাখতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ প্রত্যাশার সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ।
‘উদ্ভাবনশীল ব্রিকস’ এবং ‘সবুজ ব্রিকস’ নির্মাণের উদ্দেশ্য হল ব্রিকস দেশগুলোর উন্নয়ন সক্ষমতা এবং সহযোগিতার স্তর বাড়ানো। চীন-ব্রিকস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন ও সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা থেকে শুরু করে ব্রিকস ডিপ সি রিসোর্স ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার, ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি ইকোলজিক্যাল কো-অপারেশন নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, সবুজ শিল্পে ব্রিকস সহযোগিতার সম্প্রসারণ, পরিষ্কার শক্তি, সবুজ খনিজ ইত্যাদি পর্যন্ত, চীনের ফোকাস হল ব্রিকস সহযোগিতার গুণমান উন্নীত করা এবং ব্রিকস সহযোগিতাকে [‘গ্লোবাল সাউথে’র সাধারণ উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া।
আজ বিশ্বের উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসাবে, ব্রিকস শুধুমাত্র নিজেদের বিকাশ করে না, বিশ্বব্যাপী শাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে অবদান রাখার দায়িত্বও রয়েছে এর। চীন একটি ‘ন্যায়সঙ্গত ব্রিকস’ গড়ে তোলার প্রস্তাব করেছে কারণ এটি আশা করে যে ব্রিকস দেশগুলি একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’কে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শাসন ও নীতি-প্রণয়নে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে, তাদের কণ্ঠস্বর এবং প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সহায়তা করবে। যাতে একটি সমান ও সুশৃঙ্খল বহু-মেরু বিশ্বের উপলব্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের প্রচার করা যায়।
ব্রিকস সদস্যদের গঠন থেকে বিচার করলে, তারা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছে এবং তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে। চীন একটি ‘সাংস্কৃতিক ব্রিকস’ গঠনের প্রস্তাব করেছে এবং বিভিন্ন সভ্যতার অন্তর্ভুক্তিমূলক সহাবস্থানের কথা বলেছে। চীন আগামী পাঁচ বছরে ১০টি বিদেশী শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে এবং ১০০০ শিক্ষা ব্যবস্থাপক, শিক্ষক এবং ছাত্রদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করবে।