‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে এ উদ্যোগ
“চীন ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে অভিন্ন উন্নয়ন অর্জনকে বেগবান করে, পুরোপুরিভাবে দেশগুলোর নিজেদের পছন্দের উন্নয়ন-পথকে সম্মান করে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নির্মাণে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে কিরগিজস্তানি জনগণ বাস্তব কল্যাণ অর্জন করছে।” সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশ্ব রাজনীতি গবেষণালয়ের প্রধান শেরাদির বক্তেগুলোভ এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন। তিনি মনে করেন, যৌথভাবে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নির্মাণ করা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেগবান করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানুষে মানুষে বন্ধন শক্তিশালী করেছে।
তিনি বলেন, “বেল্ট অ্যান্ড রোড” উভয়ের জন্য কল্যাণকর সহযোগিতার ধারণাকে সমর্থন করে, যৌথ আলোচনা, নির্মাণ ও সমন্বিত অর্জনের মৌলিক নীতি পোষণ করে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমতাভিত্তিক ও পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতাকে বেগবান করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উন্নয়ন দক্ষতা বাড়ায় এবং জীবিকার উন্নয়ন ঘটায়। “বেল্ট অ্যান্ড রোড”-এর কারণে গত দশ-বার বছরে কিরগিজস্তান-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
“বেল্ট অ্যান্ড রোড’ কাঠামোয় চীন ও কিরগিজস্তান অবকাঠামো ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চালাচ্ছে।
দেশটির বহু অঞ্চল পাহাড়ি হওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থায় যে অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে তা কিরগিজস্তানের খনি শিল্প ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নকে সীমিত করেছে। কিন্তু ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’-এর কল্যাণে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন চেহারা এসেছে। নতুন রাজপথের কারণে দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকার জনগণ আরও সুবিধাজনকভাবে শহরে প্রবেশ করতে পারে। বেশ কয়েকটি খনি ক্ষেত্রে নতুন পরিবহন রাজপথ রয়েছে। সড়ক বরাবর অধিবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকরা আরও সুবিধাজনকভাবে দেশটির ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারছে। এছাড়া চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ৪৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় রাজপথের নির্মাণ কাজ চলছে। সেটি চালু হবার পর গাড়িতে করে, দক্ষিণাঞ্চলীয় জালাল-আবাদ থেকে ইসিক-কুল লেকসাইড শহর বালিকছায় যেতে মাত্র ৫ ঘন্টা লাগবে, যেখানে আগে লাগতো ৯ ঘন্টা।