বাংলা

বেইজিংয়ের লুং ওয়ান টুন উপজেলার গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনে তারুণের ভূমিকা

CMGPublished: 2024-03-15 18:19:21
Share
Share this with Close
Messenger Pinterest LinkedIn

বসন্তের শুরুতে বেইজিংয়ে সূর্য উজ্জ্বলভাবে আলো ছড়াচ্ছে। বেইজিংয়ের শুন ই জেলার লুং ওয়ান টুন উপজেলায় অবস্থিত সান হ্য ইংইয়ুয়ান প্ল্যান্টিং প্রফেশনাল কো-অপারেটিভ খুব ভোরে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সারি সারি সুন্দর গ্রীণহাউসের মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে ছুটাছুটি করেন গ্রামবাসীরা। তারা ফসল তোলা, বাছাই, পরিবহন, লোডিংসহ নানা কাজে ব্যস্ত। কয়েক ঘন্টা পর কয়েকটি ট্রাক কানায় কানায় ভরে যায় সবজি ও ফলে।

সান হ্য ইংইয়ুয়ান সমবায় পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান চু হোং স্যু আমাদের সাংবাদিকদের গ্রিণ হাউসে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘এখন স্ট্রবেরি তোলার সময়। আমাদের স্ট্রবেরি বাজারের চাহিদা মেটাতে হয় নি। “গ্রিণহাউসে আমাদের সাংবাদিক দেখতে পাচ্ছেন যে, স্ট্রবেরি গুচ্ছ গুচ্ছ শেডে চমৎকার ভাবে বেড়ে উঠছে। লাল ফলগুলো মাটিতে ছড়িয়ে আছে। বাতাস মিষ্টি সুবাসে ভরেছে। চু হোং স্যু বলেন, “একটি গ্রিণহাউসে বার্ষিক ২ হাজার কেজি স্ট্রবেরি উত্পাদিত হয়। যা থেকে ৬০ হাজার ইউয়ান উপার্জন হয়।“

চু হোং স্যু’র বয়স ২৭ বছর। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানচেস্টারে পড়াশোনা করেছেন। স্নাতক শেষ করার পর, তিনি তার নিজের জন্মস্থান লুং ওয়ান টুন উপজেলায় ফিরে আসার সিন্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন বাগান চালাচ্ছেন। আমার স্মৃতিতে, শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত পর্যন্ত, জমি এবং ফলের গাছের সঙ্গে তার উপস্থিতি সবসময় অবিচ্ছেদ্য ছিল।"

লুং ওয়ান টুন উপজেলা শুন ই অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। পুরো উপজেলায় ফল চাষের আয়তন ২ হাজার হেক্টর ছাড়িয়েছে। এটি বেইজিংয়ের বিখ্যাত ফল টাউন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় স্থানীয় কৃষিখাতে একক কাঠামোতে এর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষমতা দুর্বল ছিল। যার ফলে স্থানীয় কৃষি শিল্প বড় তবে শক্তিশালী নয়, সম্পূর্ণ তবে সুষ্ঠু নয়।

লুং ওয়ান টুন উপজেলার সিপিসি’র কমিটির উপসম্পাদক ও উপজেলার প্রধান লিয়াং পাও সিন বলেন, ‘সে সময় তরুণরা গ্রামে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছিল না। তাই তারা অনেকে অন্য স্থানে শ্রম দিতে যান।“সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, উপজেলাটির সরকার গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে ‘মেড উ লুয়াং ওয়ান’ নামক কৃষি উন্নয়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গ্রামে জনশক্তি অনুসন্ধ্যান করা হয়, যাতে স্থানীয় ক্ষেত বিশেষজ্ঞ এবং জমি পেশাদারদের জন্য বিশাল মঞ্চ প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সুষ্ঠু জনশক্তি আকৃষ্ট করা যায়।

এ প্রেক্ষাপটে চু হোং স্যু বলিষ্ঠতার সঙ্গে বর্তমান কৃষি পণ্য ভোক্তাদের চাহিদা ও সরবরাহ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদের বহু বছর ধরে চাষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপককে প্রযুক্তি প্রদান করতে আমন্ত্রণ জানান, যাতে কৃষকদের আরও ভালো দিকনির্দেশনা করা যায়। চু হোং স্যু বলেন, ‘গত বছরে সমবায়ের উত্পাদনের পরিমাণ ১০ লাখ ইউয়ান ছাড়িয়েছে। যার ফলে আশেপাশে ১০০ কৃষি পরিবার উপকৃত হয়েছে। প্রতি পরিবার সমবায় থেকে গড় বার্ষিক লভ্যাংশ ২ হাজার ইউয়ান ছাড়িয়েছে। সমবায়ের খ্যাতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অধিকতর তরুণ এ দলে যোগ দিয়েছে। চু হোং স্যু বলেন, “২০২১ সালে আমরা বেইজিং কৃষি কারিগরি কলেজের সঙ্গে সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। কলেজটি কৃষিক্ষেতে বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক নয়, বরং প্রতি বছরে লালবীজ, চাষবাদ, বিক্রি ও ব্যবস্থাপনাসহ নানা খাতে ডজন? শিক্ষার্থীদের পাঠায়।”

তরুণদের যোগদানে লুয়াং ওয়ান টুন উপজেলার পুনরুজ্জীবনের জন্য নতুন প্রযুক্তি নয়, বরং নতুন ধারণা, মূল্যবোধ ও পদ্ধতি আনা হয়। ছিয়াও সাও সমবায় স্থানীয়ভাবে খুব বিখ্যাত। তবে একটা সময় থেকে এ সমবায় চ্যালঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। বেইজিংয়ের কৃষি একাডেমীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তরদের যোগদানে এ সমস্যা সমাধান হয়।

২০২১ সালে বেইজিং কৃষি কলেজের তিনজন শিক্ষক ছিয়াও সৌ সমবায় স্টুডিও স্থাপন করেন। গত তিন বছরে, প্রায় একশো স্নাতক হয়েছেন এবং স্নাতক ছাত্ররা "ছিয়াও সাও" দলে অনুশীলন বেছে নিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও উন্নত ধারণা এবং উদ্ভাবনের তাড়না রয়েছে, যখন "ছিয়াওসাও" দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা "পুরনো কৃষকদের" সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় সমবায়ের জন্য একটি নতুন উন্নয়নের পথ খুঁজে পেয়েছে।

লিয়াও পাও সিন বলেন, ‘আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাস করেন, কি হলো গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন? এটির উত্তরে আমি মনে করি, ‘শিশুদের হাসি শোনা যায়, প্রবীণদের হামিমুখ এবং তরুণদের অংশগ্রহণ পাওয়া যায়।

Share this story on

Messenger Pinterest LinkedIn