বাংলা

আকাশ ছুঁতে চাই ৯২

CMGPublished: 2024-10-17 19:29:13
Share
Share this with Close
Messenger Pinterest LinkedIn

এবারের পর্ব

১. সাহিত্যে নোবেল জয়ী এশিয়ার প্রথম নারী লেখক

২. কুপা চা তৈরির ঐতিহ্যের ধারক পং খাংচং

৩. সুরে সুরে জীবন চলে

আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠান থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি ভালো আছেন। আজ আমরা শুনবো নোবেল জয়ী নারী লেখক হান ক্যাং এর কথা। শুনবো বিশেষ অবৈষীয়ক ঐতিহ্য কু পা চা তৈরির একজন ইনহেরিটরের কথা। আরও শুনবো চিং জাতির বিশেষ ঐতিহ্য ধারণ করে সুরে সুরে জীবন গড়ে নেয়া একজন নারীর গল্প।

সাহিত্যে নোবেলজয়ী এশিয়ার প্রথম নারী লেখক হান ক্যাং

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করে সম্প্রতি বিশ্বকে চমকিত করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং। তিনি এশিয়ার প্রথম নারী যিনি সাহিত্যে নোবেল জয় করলেন। নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানব জীবনের দুঃখ-কষ্ট কাব্যিকভাবে রূপায়ন করার স্বীকৃতি হিসেবে হান ক্যাংকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আফরিন মিমের প্রতিবেদনে বিস্তারিত শুনবো এই কৃতী নারীর কথা ।

৫৩ বছর বয়সী লেখিকা হান ক্যাং। এবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত এই। এশিয়ায় প্রথম নারী হিসেবে এ স্বীকৃতি অর্জন করলেন তিনি।

সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ১২১তম লেখক হিসেবে হানের নাম ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি। পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তার দারুণ কাব্যময় গদ্যের কথা, যা ঐতিহাসিক আঘাত আর ক্ষতগুলোকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে এবং মানবজীবনের নশ্বরতাকে প্রকাশ করে বলে মত ব্যক্ত করা হয়েছে একাডেমির পক্ষ থেকে। বিশেষত্বের চিহ্ন পাওয়া যায় তার প্রায় সব উপন্যাসে।পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসাবে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার পাবেন হান।

১৯৭০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গাংজু শহরে জন্মগ্রহণ করেন হান ক্যাং। ৯ বছর বয়সে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে সিউলে চলে আসেন। তার সাহিত্যিক পরিবারের পটভূমি থেকে তিনি লেখালেখির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। হান ক্যাংয়ের বাবা একজন সুপরিচিত ঔপন্যাসিক ছিলেন। সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি চিত্রকলা ও সংগীতেও পারদর্শী, যা তার সমগ্র সাহিত্যকর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।

হান ক্যাং এর আগেও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছেন, বিশেষ করে তার উপন্যাস 'দ্য ভেজিটারিয়ান'-এর জন্য। এটি ২০১৬ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ জয় করে। তার সাহিত্যিক কাজগুলোতে তিনি মানবিক দুর্দশা, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং স্মৃতির গভীর জটিলতাগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন।

হান ক্যাংয়ের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সাফল্য আসে উপন্যাস ‘দ্য ভেজিটারিয়ান’-এর মাধ্যমে। এটি তিনটি অংশে রচিত। নোবেল কমিটি বলেছে, তার কাজের বৈশিষ্ট্য হলো ব্যথার দ্বৈত প্রকাশ, মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে একটি সাদৃশ্য, যা প্রাচ্য চিন্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

২০২৩ সালের পুরস্কারটি নরওয়ের লেখক ও নাট্যকার জন ফসেকে প্রদান করা হয়েছিল। তিনি তার উদ্ভাবনী নাটক ও গদ্যের জন্য সম্মানিত হয়েছিলেন। যা অব্যক্ত অনুভূতিগুলোকে কণ্ঠ দেয়।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের প্রাধান্য ছিল। মাত্র ১৭ জন নারী এই সম্মান পেয়েছেন। সর্বশেষ নারী বিজয়ী ছিলেন ফ্রান্সের আনি আর্নো, যিনি ২০২২ সালে এই পুরস্কার অর্জন করেন।

কুপা চা তৈরির ঐতিহ্যের ধারক পং খাংচং

দক্ষিণ চীনের কুয়াংসিতে কুপা চা তৈরিতে দক্ষ পং খাংচং। ছোটবেলা থেকেই এই চা তৈরির সঙ্গে আছেন তিনি।এখন তিনি এই চা তৈরিতে ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে সুপরিচিত। বিস্তারিত আফরিন মিমের প্রতিবেদনে।

দক্ষিণ চীনের কুইচৌ প্রদেশের বিখ্যাত চা কুপা। আর এই চা তৈরিতে অন্যদেরকে ছাড়িয়ে নিজেকে বিশিষ্ট করে তুলেছেন পং খাংচং নামের এক নারী।

এই প্রদেশের সিয়াংচৌ কাউন্টির কুপা গ্রামের বাসিন্দা পং খাংচং। তিনি ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।জন্মের পর থেকে পরিবারের মানুষদের দেখতেন এই চা তৈরি করতে। সেই থেকে ধীরে ধীরে নিজেও শিখতে থাকেন এই চা তৈরি। একটা সময় পর এখন কুপা চা তৈরির ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে সুপরিচিত তিনি।

সিয়াংচৌর চা চাষ একটি ঐতিহ্য, যা তেরোশ’ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। এই চায়ের নাম মূলত এই গ্রামের নাম থেকেই এসেছে। যার ইতিহাস চারশ বছরের পুরনো।

গেল কয়েক বছরে, স্থানীয় সরকার এই চা শিল্পের প্রসারে কাজ করছেন। যার ফলে গ্রামীণ নারীরাও আসছেন এই পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। এতে করে এই চা তৈরি করে আয় করছেন গ্রামীণ নারীরা।

পং খাংচং বলেন, ‘কুপা চা আমাদের পূর্বপুরুষদের করা একটি ঐতিহ্য এবং এটি ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা কিছু করা দরকার, আমি করব। গ্রামীণ পুনর্জীবনে আমি অবদান রাখতে চাই”।

কুপা চায়ের একটি স্টল আছে পং খাংচংয়ের। সেখানেই এই চায়ের স্বাদ নিতে পারেন চা প্রেমীরা। পাশাপাশি এই চা তৈরি করে নিজেও সাবলম্বী হয়েছেন। অবদান রাখছেন নিজের পরিবারে।

প্রতিবেদন- আফরিন মিম

সম্পাদনা- শান্তা মারিয়া

সুরে সুরে জীবন চলে

চীনের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য যারা ধারণ করেন তাদের বলা হয় ইনহেরিটর। এমনি একজন নারী ইনহেরিটরের গল্প শুনবো আজ যিনি জীবন গড়েছেন সুরে সুরে।

চীনের অন্যতম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী চিং জাতি। এরা চীনের একমাত্র সমুদ্র উপকূলবর্তী এথনিক জনগোষ্ঠী। চিং জাতির একটি অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো একতার বিশিষ্ট একটি বাদ্যযন্ত্র । এই বিশেষ ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজানোর একজন ইনহেরিটর নারী শিল্পী চাও সিয়া। তিনি কুয়াংসি চুয়াং অঞ্চলের একজন শিল্পী।

কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উপকূলীয় শহর তোংসিং এর তিনটি দ্বীপে মূলত চিং জাতিগোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষ বসবাস করেন। এই জাতির বর্তমান জনসংখ্যা ৩০ হাজার । এরা ভিয়েতনামের সীমান্তে বাস করেন। তাদের একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো এক তার বিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্রের নাম তুসিয়ানছিন।

চাও সিয়া শৈশব থেকেই এই বাদ্য যন্ত্র বাজাচ্ছেন। বলতে গেলে এই বাদ্যযন্ত্রের সুরে সুরে জীবন গড়ে নিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা কম্পন থেকে শব্দ তৈরি করে। জয়স্টিকের মাধ্যমে এক তার থেকেই অনেক ধ্বনি তৈরি ও পিচ এবং টিউন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জয়স্টিকের যত কাছে পয়েন্ট থাকবে ততো উচ্চ শব্দ তৈরি হবে। এই যন্ত্রের সম্ভাবনা অনেক। যেমন, এটি অন্য কিছু ধ্বনিকে অনুকরণ করতে পারে।’

একতার বিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র তুসিয়ানছিনের আকার অনেকটা আয়তকার বাক্সের মতো। এর আওয়াজ বেশ শ্রুতিমধুর। এই যন্ত্র সাধারণত কবিদের কবিতা পাঠের সময় বাজানো হয়। ২০১১ সালে এই বাদ্যযন্ত্র চীনের অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

এই বাদ্যযন্ত্র অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরের গোল্ডেন হলে মুজিকভেরেইন উৎসবেও বাজানো হয়েছে। অনেক সময় চীন ও অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগমূলক অনুষ্ঠানেও এই বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়।

চাও সিয়া বিভিন্ন উৎসবে এই বাদ্য যন্ত্র বাজিয়েছেন। তিনি শুধু এই ঐতিহ্যকে নিজেই ধারণ করেন না, পরবর্তি প্রজন্মের কাছে এটি পৌছে দেয়ার জন্যও কাজ করছেন। তিনি তার জীবনকে পরিচালিত করছেন তুসিয়ানছিনের মধুর ধ্বনির সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া

সম্পাদনা: মিম

আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠান শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা। আগামি অনুষ্ঠানে শোনার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন চাই চিয়েন।

সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী

লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া

অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ

Share this story on

Messenger Pinterest LinkedIn