আকাশ ছুঁতে চাই ৯০
১জনগণের শিল্পী
২. সীমান্ত রক্ষী নারী
৩. কুনমিং নগর কবিতা শিল্প উৎসবে ভিয়েতনামী নারী
আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানে থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আজকের অনুষ্ঠানে আমরা চীনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে সম্মানপ্রাপ্ত বীর নারীর কথা বলবো। একজন সীমান্ত রক্ষী নারীর অটল নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের গল্প বলবো।
আরও বলবো। কুনমিং নগর কবিতা শিল্প উৎসবে অংশগ্রহণকারী ভিয়েতনামী নারী নগুয়েন লেচির কথা। চলুন শোনা যাক, নারী ও শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠানে আকাশ ছুঁতে চাই।
জনগণের শিল্পী
চীনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে একজন মহান নারীকে ‘জনগণের শিল্পী’ খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে। সম্মানসূচক এই খেতাবে ভূষিত নারীর নাম থিয়ান হুয়া। শুনবো এই প্রবীণ বীর নারীর গল্প।
প্যাকেজ: ১ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রবীণ নারী থিয়ান হুয়াকে সম্মানসূচক ‘জনগণের শিল্পী’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
৯৭ বছর বয়সী এই নারী দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এই সম্মানে ভূষিত হলেন।
তিনি মনে করেন ‘বীর শহীদদের প্রতিনিধি হিসেবে’ তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করছেন। ‘সাদা চুলের মেয়ে’, কমিউনিস্ট পার্টির কন্যাসহ ২০টির বেশি দেশপ্রেমমূলক চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন তিনি। থিয়ান হুয়া মনে করেন, সেনাবাহিনীর এইথ রুট আর্মিতে যোগদান তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৯৪০ সারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থিয়ান ছিলেন ১২ বছরের কিশোরী। সে সময় পাশের গ্রামে তিনি একটি নাটক দেখে মুগ্ধ হন। অভিনয় করার ইচ্ছা জাগে। পরদিন তিনি পার্পেল রঙের একটি নতুন জামা পরে শানসি-ছাহার-হেবেই মিলিটারি রিজিয়ন ড্রামা ক্লাবে যোগ দেন। মঞ্চে তার নাম দেয়া হয় থিয়ান হুয়া। এই নামেই সারা দেশে তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন।
যুদ্ধের নির্মমতা তাকে এক সরল বালিকা থেকে সংগ্রামী নারী করে তোলে। তিনি সেনাবাহিনীর নাট্যদলে কাজ করতে থাকেন। তিনি যুদ্ধরত সৈনিকদের জন্য নাটকে অভিনয় করতেন, গান গাইতেন তাদের দেশপ্রেমে অনুপ্রেরণা দিতেন। পাশাপাশি তিনি নিজের উচ্চারণ পরিমার্জন করেন, গানের অনুশীলন ও অভিনয় চর্চার মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তোলেন।
পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলে তিনি সেনাবাহিনীতে দ্রুত উন্নতি করেন। তিনি একজন সাধারণ গ্রামের মেয়ে থেকে লড়াকু সৈনিক হয়ে ওঠেন এবং গণমুক্তি সংগ্রামে যোগ দেন।
মহান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে তিনি অংশ নেন। জনগণকে বিপ্লবে অনুপ্রাণিত করার জন্য বিপ্লবী নাটকে অভিনয় করেন।
এখন তার বয়স ৯৭ বছর। তিনি এখনও ব্যস্ত জীবন যাপন করেন। তিনি প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়েন। রাষ্ট্র, সমাজ কমিউনিস্ট পার্টি সম্পর্কে আপটেুডেট থাকেন। ২০১৬ সালে তার স্বামী সু ফানের মৃত্যুর পর থেকে তিনি মৃত স্বামীর প্রতি চিঠি লেখেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি আত্মজৈবনিক লেখা তৈরি করছেন।
থিয়ান হুয়া বলেন, পার্টি, এইথ রুট আর্মি, চীনের গণমুক্তি ফৌজ এবং চীনা জনগণের সমর্থনেই তিনি নিজের জীবন গড়ে তুলেছেনতাদের বাদ দিয়ে তিনি নন।
তিনি শহীদ ও প্রয়াত বীর কমরেডদের সমাজ গঠনের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
তিপ্পান্ন বছর ধরে সীমান্ত রক্ষা করছেন সাহসী নারী নাইমা
তিপ্পান্ন বছর ধরে চীন-মঙ্গোলিয়ার সীমান্তে পাহারা দিচ্ছেন চীনের সাহসী নারী নাইমা। চীনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে তিনি জাতীয় এথনিক ঐক্য ও উন্নয়নের মডেল হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন। শুনবো তার গল্প।
চীন মঙ্গোলিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে বাস করেন উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মঙ্গোল জাতির নারী নাইমা।
এখন তার বয়স ৭৯ বছর। ২৫ বছর বয়সে ১৯৭১ সালে তিনি আলশা লিগ এলাকায় সীমান্ত রক্ষী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সীমান্ত পাহারা দেয়ার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন। অবৈধ ভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার একহাজারটি ঘটনা প্রতিরোধ করেছেন। তাকে বলা হয় জীবন্ত সীমান্ত শিলা।
পারিবারিক ধারা বজায় রেখে নাইমার ছেলেও সীমান্ত রক্ষার কাজ করেছেন। এখন নাইমার বিশ্ববিদ্যালয় পাশ নাতিও এই কাজে যোগ দিয়েছেন।
দেশপ্রেমের অটল দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং জাতিগত ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নাইমাকে রোল মডেল হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা জানানো হয়েছে।
নাইমা জানান, তিনি তার দৈনন্দিন পশুপাল চড়ানোর কাজও করেন। পাশাপাশি সীমান্তেও নজর রাখেন।
কঠোর প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এই দায়িত্ব পালন করছেন নাইমা। তিনি বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির একজন সদস্য হিসেবে মাতৃভূমিকে রক্ষা করা আমার কর্তব্য। একজন পার্টি সদস্য হিসেবে যে প্রতিজ্ঞা করেছি তা পালন করাই আমার জীবনের উদ্দেশ্য।
প্রতিবেদন শান্তা মারিয়া
কুনমিং নগর কবিতা শিল্প উৎসবে ভিয়েতনামী নারী
চীনের ইয়ুননান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় কুনমিং নগর কবিতা শিল্প উৎসব। চীন, বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কবি, লেখকরা এতে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি কবি, শিল্পী, লেখকদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভিয়েতনামের নারী লেখক ও অনুবাদক নগুয়েন লেচি। শুনবো এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন।
শরতের সুন্দর সকাল। কিছুটা মেঘলা আকাশ। চীনের ইয়ুননান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের ট্রি’স শ্যাডো আর্ট সেন্টার। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবি, লেখক, শিল্পী সাহিত্যিকদের এক মিলনমেলা। তৃতীয় কুনমিং নগর কবিতা শিল্প উৎসবের আসর বসেছিল এখানে। চীন, বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কবি, লেখক, অনুবাদক ও প্রকাশকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে চীনের কবি এবং বিদেশি কবিরা কবিতা পাঠ করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বিদেশি কবিরা সাহিত্যের অপরিসীম শক্তি তুলে ধরে প্রত্যেকে একটি করে প্রবন্ধ পাঠ করেন। তাদের প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করেন চীনের নবীন প্রবীণ কবিরা।
এই ধরনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিদেশি কবি লেখকরা।
বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বিদেশি ভাষায় লেখকদের বই প্রকাশ জরুরি। চীনা বইয়ের অনুবাদক ও প্রকাশক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন ভিয়েতনামের লেখক, অনুবাদক ও প্রকাশক নগুইয়েন লে চি। তিনি সিএমজি বাংলাকে জানালেন এ বিষয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা।
নগুয়েন লে চি, প্রতিষ্ঠাতা সিইও , চি বুকস। তিনি বলেন,
‘বিদেশি ভাষার লেখকের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দিক হলো এজন্য বিদেশি লেখককে পাঠকের কাছে পরিচয় করাতে হয়। কারণ না হলে পাঠক তার বই পড়তে উৎসাহী হবেন না। আমি দীর্ঘদিন ধরে চীনা লেখকদের লেখা ভিয়েতনামের ভাষায় অনুবাদ করছি। তাদের বই প্রকাশ করছি।’
নগুয়েন লে চি ভিয়েতনামের নারী লেলকদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান ভিয়েতনামে নারী লেখকদের পৃথক সংগঠন রয়েছে। আগের যুগের নারী লেখকদের প্রসঙ্গ তুলে নগুয়েন বলেন , সেসময় নারী লেখকরা প্রধানত নিজেদের বিশেষ সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন। তারা নারী অধিকারের কথা বলেছেন। তাদের লেখায় প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর প্রধান ছিল। তবে বর্তমানের নারী লেখকরা তাদের পুরুষ লেখকদের মতোই নিজেদের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বেশি তুলে ধরেন।
সামগ্রিকভাবে ভিয়েতনামের সাহিত্য ক্ষেত্রে নারী পুরুষ বৈষম্য কম বলে জানালেন নগুয়েন লে চি। এরপরও নারীদের নিজস্ব ধরনের কিছু সমস্যা রয়েছে, রয়েছে সাহিত্যে সেগুলোর প্রতিফলন।
দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত কবি লেখকরা বিভিন্ন বিষযে চীনা লেখকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া
সম্পাদনা: ফয়সল আবদুল্লাহ
সুপ্রিয় শ্রোতা, আকাশ ছুঁতে চাই আনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা। সবাইকে আগামি অনুষ্ঠানে শোনার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।
সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী
লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া
অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ