বর্তমান স্থান: মূল পাতা > সংস্কৃতি > প্রধান লেখা

চীনের ‘উ শু’ অনুরাগী ইরানের মাসুদ জাফারি (ইউন সিও লোং)

2019-01-30 10:06:59

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের ৮ কোটি লোকসংখ্যার মধ্যে যারা চীনের ‘উ শু' চর্চা করেন তাদের সংখ্যা ৫০ বা ৫৫ হাজার। তাদের মধ্যে এমন একজন উ শু অনুরাগী আছেন, যিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উ শু চর্চা করে আসছেন। তিনি ইরানে উ শু প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়াও নিজ উদ্যোগে চীনের এই সংস্কৃতি এবং ড্রাগন ও সিংহ নাচের সংস্কৃতি জনপ্রিয় করে তোলার জন্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি হচ্ছেন মাসুদ জাফারি এবং তার চীনা নাম ইউন সিও লোং।

ছোটবেলা থেকেই একজন উ শু অনুরাগী ছিলেন ইউন সিও লোং। ৯ বছর বয়সে চীনের উ শু'র প্রতি তার আগ্রহ শুরু হয়। ১২ বছর বয়সে তিনি শাও লিন বক্সিং নিয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ব্রুস লি এবং জ্যাকি ছেনের কুংফু চলচ্চিত্রের কারণে ছোটবেলা থেকে চীনের উ শু'র প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি চীনের কুংফু চলচ্চিত্র দেখতে খুব পছন্দ করতাম। এ কারণে চীনের কুংফুকে ভালোবাসা শুরু করি। আমার ধারণায়, সেইসময় অনেকে আমার মতো চীনের কুংফু চলচ্চিত্র উপভোগের মাধ্যমে চীনের কুংফু সম্পর্কে জানতে পারেন। আমার বড় ভাই একজন জিমন্যাস্টিক কোচ। সর্বপ্রথম আমি তার কাছে জিমন্যাস্টিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ১২ বছর বয়স থেকে আমি একজন উ শু শিক্ষকের কাছে টানা ১২ বছর শাও লিন বক্সিং ও মুষ্টিযুদ্ধ শিখেছি। তারপর আমি জন্মস্থান থেকে রাজধানী তেহরানে আসি এবং একটি প্রশিক্ষণ ক্লাস চালু করি। এখন আমি বিভিন্ন শহরে উ শু প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। '

ইরানে বহু বছর ধরে উ শু শিখে কিছু সাফল্য অর্জন করা সত্ত্বেও ইউন সিও লোং চীনের কুংফু'র উত্সস্থান বলে পরিচিত শাও লিন মন্দির দেখতে খুব আগ্রহী। ২০০৬ সালে তিন মাসের এক প্রশিক্ষণের জন্য ইউন সিও লোং প্রথমবারের মতো চীনের শাও লিন মন্দিরে যান। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি এখান থেকে একটি সনদও লাভ করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি প্রথমবারের মতো শাও লিন মন্দিরে যান, তখন তিনি চীনা ভাষা ও ইংরেজি ভাষা বুঝতে পারেন না এবং তার নিজের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব ভালো ছিলো না। তবে তিনি উ শু সংস্কৃতির মূল অনুসন্ধান করতে চান। শাও লিন মন্দিরে পৌঁছানোর প্রথম রাতের কথা স্মৃতিচারণ করে ইউন সিও লোং বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার শাও লিন মন্দিরে যাওয়ার স্বপ্ন ছিলো। রাত ২টার সময় আমি প্রথমবারের মতো শাও লিন মন্দিরে পৌঁছাই। ভোর ৪ বা ৫টায় মন্দিরের ঘন্টা বেজে ওঠে। আমি দরজা খুলে বের হই। আমি দেখতে পাই, অনেক শাও লিন শিষ্য দৌড়াচ্ছেন। আমি তাদের সঙ্গে দৌড় শুরু করি। এটি হলো আমার প্রথমবারের মতো শাও লিন মন্দিরে প্রশিক্ষণের দৃশ্য। শাও লিন মন্দিরে থাকার সময় আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি কিছু চীনা ভাষা শিখেছি এবং চীনের খাবার ও পরিবেশ সম্পর্কেও আমি কিছু জানতে পেরেছি। আমার স্মৃতিতে সেসময় অনেক শীত ছিলো। সেই বছর চীনে প্রচণ্ড তুষার পড়ে। আমার কাছে সেটা একটা অবিস্মরণীয় স্মৃতি।'

খবর :
সর্বশেষ খবর চীন বিশ্ব দক্ষিণ এশিয়া

চীনা ভাষা শিখুন সংস্কৃতি জীবন বাণিজ্য চীনের বিশ্বকোষ