বর্তমান স্থান: মূল পাতা > সংস্কৃতি > প্রধান লেখা

ভারতের টয়লেট বাস্তবতা ও চলচ্চিত্র ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’

2018-02-07 15:48:52

ভারতের টয়লেট বাস্তবতা ও চলচ্চিত্র ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’

‘টয়লেট:এক প্রেম কথা' চলচ্চিত্রটির প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম কেশাভ এবং প্রধান নারী চরিত্রের নাম জায়া। জায়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তাদের দু'জনের জীবনযাপনের পরিবেশ ও চিন্তাধারা ভিন্ন হলেও প্রথম দেখাতেই জায়াকে ভালোবেসে ফেলেন কেশাভ। দু'জনে লম্বা প্রেমের কাহিনীর পর বিয়ে করেন। বিয়ে করার পর তারা আবিষ্কার করেন, দু'জনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো টয়লেট। কেশাভের বাসায় কোনো টয়লেট নেই। তবে জায়ার বাসায়, স্কুলে, সব জায়গাতেই ভালো টয়লেট আছে।

কেশাভের বাসায় টয়লেট না থাকা মানে জায়াকে গ্রামের অন্য মহিলাদের সঙ্গে খুব ভোরে মাঠে বা ভূমিতে খোলা আকাশে টয়লেট সেরে নিতে হবে।

এ খবর জানার পর জায়া তা প্রত্যাখ্যান করেন। জায়ার মতামত অনুযায়ী, শুধুমাত্র পশুপ্রাণীই খোলা আকাশে প্রস্রাব বা মল ত্যাগ করে। মানুষ হিসেবে অবশ্যই একটা টয়লেট দরকার। তবে তার শ্বশুর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। তার শ্বশুর বাসায় টয়লেট নির্মাণ করতে দিতে চায় না। কোনো উপায় না থাকায় জায়া কেশাভের সাহায্যে সবজায়গায় টয়লেট ধার করার চেষ্টা চালান। এদিকে, একদিন চলচ্চিত্রের দৃশ্য-বিন্যাস শুটিংয়ের জন্য একজন ফিল্ম ক্রু গ্রামে আসে। স্ত্রীর জন্য কেশাভ ফিল্ম ক্রুর ভ্রাম্যমান টয়লেট চুরি করেন এবং এ জন্য তিনি গ্রেফতার হন।

কেন কেশাভের বাবা, তথা সকল গ্রামবাসী টয়লেট নির্মাণ করতে চায় না?

আসলে এ বিষয়ে তাদের গভীর যুক্তি আছে। তাদের ধারণায়, প্রথমত, বাসায় টয়লেট নির্মাণ করলে বাসা কলুষিত হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনীতির দিক থেকে বলা যায়, যারা বাসায় টয়লেট নির্মাণের বিরোধিতা করেন, তাদের ধারণায়, তারা অনেক পরিশ্রম করে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছেন, এখন সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাদের দাস হতে চান না। তৃতীয়ত, ধর্মীয় সংস্কৃতির দিক থেকে বলা যায়, হিন্দু মতবাদে টয়লেট নির্মাণ করার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয় নি। পূর্বপুরুষদের বাসায় টয়লেট না থাকা সত্ত্বেও তারা ভালোভাবে জীবনযাপন করেছেন।

খবর :
সর্বশেষ খবর চীন বিশ্ব দক্ষিণ এশিয়া

চীনা ভাষা শিখুন সংস্কৃতি জীবন বাণিজ্য চীনের বিশ্বকোষ