বর্তমান স্থান: মূল পাতা > সংস্কৃতি > প্রধান লেখা

ধর্ম ব্যবসায়ীদের নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ওহ মাই গড’

2015-03-05 10:11:26

তবে কানজির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কেউ আদালতে হাজির হতে চাননা। কেননা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আইনজীবীরা আদালতে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাই তিনি বিভিন্ন আইনজীবীকে খোঁজ করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে এক দয়ালু প্রতিবন্ধী আইনজীবীর সাহায্যে তিনি নিজেই নিজের আইজনজীবী হিসেবে আদালতে হাজির হন।

এদিকে দেবতার বিরুদ্ধে আনা কানজির অভিযোগপত্র এক একটি মন্দিরে পাঠানো হয়। ফলে বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিনিধি অর্থাত্ ধর্ম গুরুরা আদালতে উপস্থিত হন। আসলে বলা যায়, দেবতার বিরুদ্ধে নয়, মূলত ধর্মীয় তত্পরতার মাধ্যমে টাকা সংগ্রহকারী এক একজন গুরুর বিরুদ্ধে মামলা করতে চান কানজি।

এ ঘট্নায় ধর্মীয় গুরুদের উস্কানি এবং প্রলোভনে ধর্মভীরুরা ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা কানজি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে হুমকি দিতে থাকেন। কানজির স্ত্রী এবং ছেলেমেয়ে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আত্মীয়দের বাসায় চলে যান। চারদিকে আলোচিত হয়ে উঠে কানজির এ ঘটনা। তথ্যমাধ্যমের বিশাল ভূমিকায় কানজি সারা দেশে বিখ্যাত হয়ে যান।

বিক্ষুব্ধ ধর্মবিশ্বাসীরা হত্যা করতে চান কানজিকে। তবে এই হত্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনাটি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিস্ময়কর একটি মুহূর্ত। কেননা দেবতা কৃষ্ণ মোটরসাইকেল চালিয়ে সময়মতো কানজিকে উদ্ধার করেন।

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা এবং অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা ধীরে ধীরে কানজিকে সমর্থন করতে থাকেন। একদিন দেবতা কৃষ্ণ'র প্রস্তাবে গীতা, কুরআন এবং বাইবেল পড়েন কানজি।

তারপর আদালতের একটি গুরত্বপূর্ণ বিতর্কে সঠিকভাবে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করেন কানজি এবং মামলায় জয় লাভ করেন।

তবে ভীষণ ক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত কানজি আদালতে অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবশেষে দেবতা কৃষ্ণ হাসপাতালে আসেন। তিনি কানজিকে নিজের আসল মূর্তি দেখান। কানজি অবাক হয়ে দেখেন যে, সামনে দাঁড়ানো এই সুদর্শন পুরুষই হলেন দেবতা কৃষ্ণ। এসময় দেবতা কৃষ্ণ কানজির চেতনা হারানো সময়কালের প্রতিটি ঘ্টনা তুলে ধরেন।

কানজি দেখতে পান যে, তাঁর হাসপাতালে থাকার সময়ে তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিদের টাকা রোজগারের একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছেন। তাঁর বিপুল সংখ্যক ভক্ত তৈরি হয়েছে এবং ভাবমূর্তি অনুযায়ী ভাস্কর্যও নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁকে কেন্দ্র করে এক ধরনের নতুন ধর্মও খুব দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু হয়েছে।

কৃষ্ণ দেবতার সাহায্যে কানজি নিজের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলেন এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করেন। অবশেষে মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দেবতা কৃষ্ণ'র অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘ওহ মাই গড' চলচ্চিত্রের কাহিনী।

খবর :
সর্বশেষ খবর চীন বিশ্ব দক্ষিণ এশিয়া

চীনা ভাষা শিখুন সংস্কৃতি জীবন বাণিজ্য চীনের বিশ্বকোষ